ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ফুল নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যাওয়ার পথে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের কাছে স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীত পাশের সড়ক থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হাতে ফুল নিয়ে মিছিল করতে করতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীত পাশের সড়ক থেকে চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ওই মিছিলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের হাতে ফুলের মালা ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় তিন নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বলে জানা গেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ বা এর নিষিদ্ধ সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। যদিও স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে দুই সপ্তাহ পর ২৬ মার্চ, তবে ওই ভাষণেই স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রতি বছর ৭ মার্চ দিবসটি রাষ্ট্রীয় ও দলীয়ভাবে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হতো। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাসভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন দিবসে সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অনেকেই হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং কেউ কেউ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
ডিবিএন ডেস্ক