দুর্নীতি করবো না, কাউকে করতেও দেব না : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 21, 2026 ইং
দুর্নীতি করবো না, কাউকে করতেও দেব না : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও আমাকে কোনও ধরণের দুর্নীতির সাথে জড়িত পাওয়া যাবে না। এমনকি কাউকে দুর্নীতি করতেও দেওয়া হবে না।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনাই নয়, বরং বাঙালির মৌলিক অধিকার আদায়ের প্রতীকও বটে। ভাষা মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও মৌলিক অধিকার। একই সাথে, নিজের পরিবার, অনুভূতি এবং চেতনার সাথে ভাষার সম্পর্ক গভীর। সেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালিদের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, ত্যাগ ও সংগ্রাম ছাড়া কোনও জাতি অধিকার অর্জন করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়েও অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এটি একটি বিরাট সাফল্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা হলো রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে উঁচু ভবন নির্মাণের কোনও মানে হয় না। অতএব, শিক্ষার অবকাঠামো শক্তিশালী করা সকলের দায়িত্ব। শিক্ষার মান উন্নয়নে তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া উচিত। তা হলো- 'পাঠ্যক্রম, শ্রেণীকক্ষ এবং ধারাবাহিকতা'। পাঠ্যক্রম ভালো হওয়া উচিত, শ্রেণীকক্ষে কার্যকর শিক্ষাদান নিশ্চিত করা উচিত এবং সারা দেশে শিক্ষার অর্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। বর্তমানে দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি শিক্ষা এবং বিভিন্ন ধরণের মাদ্রাসা সহ অনেক শিক্ষামূলক ধারা রয়েছে। এই ধারাগুলির মধ্যে মানসম্মত সমন্বয় অপরিহার্য।
ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান ভাষাতেই তৈরি ও প্রকাশ পায়। প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষা ও গণিতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ভাষা ও গণিতে দুর্বলতা থাকলে শিক্ষার ভিত্তি মজবুত হবে না। এক্ষেত্রে তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে। তবে ইংরেজি শেখানোর আগে বাংলায় দক্ষতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী সঠিকভাবে বাংলা শেখে না। এই বাস্তবতা পরিবর্তনের জন্য জোর দিতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সকল বিভাগে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে। আমরা নিজেরা দুর্নীতিতে জড়িত হব না এবং অন্যদের উপরও কঠোর নজর রাখব। কেবল আন্দোলনেই নয়, কর্মক্ষেত্রেও দেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রদর্শন করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, মানসম্পন্ন এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বে শক্ত ভিত্তির উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : ডিবিএন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ