
আব্দুল্লাহ সোহান, মনিরামপুর
একটি স্বপ্ন, একজোড়া ফুটবল বুট আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি—এই নিয়েই এগিয়ে চলছিলেন যশোরের তরুণ ফুটবলার জিম হোসেন। গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে জেলার ফুটবলে নিজের নাম তুলে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু মাঠের লড়াই করতে গিয়েই ভয়াবহ চোট থামিয়ে দেয় তার স্বপ্নের দৌড়। তবুও হার মানেননি জিম। আর সেই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
যশোর জেলা ফুটবল দলের উদীয়মান তারকা এবং যশোর সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জিম হোসেনের ডান পায়ের লিগামেন্ট অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দীন আহমাদ ও যশোরের সন্তান ডা. মুসাব্বিরুল ইসলাম রিফাতের সমন্বয়ে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে অপারেশন সফল হয়েছে। বর্তমানে জিম নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসক ডা. রিফাত জানান, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ব্যক্তিগতভাবে জিমের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তার সার্বিক সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তায় দ্রুত অপারেশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে।
দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল আসর ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ানশিপ-২০২৫-এ নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে সবার নজর কাড়েন জিম। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ও উইঙ্গার পজিশনে খেলে মাত্র আট ম্যাচেই হয়ে ওঠেন দলের ভরসার নাম। তার গতিময় খেলা, নিখুঁত পাস আর আক্রমণভাগে দুর্দান্ত উপস্থিতি যশোর জেলা দলকে এনে দেয় চতুর্থ স্থান অর্জনের গৌরব।
কিন্তু স্বপ্নভাঙার মুহূর্ত আসে সেমিফাইনালে। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে আঘাত পান তিনি। মাঠেই ব্যথায় কাতরাতে থাকেন জিম। পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার হাঁটুর লিগামেন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না হলে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়তে পারত।
চৌগাছার নারায়ণপুর গ্রামের সাধারণ পরিবারের সন্তান জিম। বাবা আক্কাস আলী দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। মা সাহিদা বেগম সংসারের সব কষ্ট বুকে চেপে ছেলের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ছোট ভাই এখনও স্কুলে পড়ে। সীমিত সামর্থ্যের পরিবারটির পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো ছিল প্রায় অসম্ভব। ঠিক সেই সময়ই পাশে দাঁড়ান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জিম ছোটবেলা থেকেই ফুটবল পাগল। নতুন জামা না হলেও চলত, কিন্তু একটি ভালো ফুটবল পেলেই খুশিতে ভরে উঠত তার মুখ। গ্রামের মাঠ থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের প্রতিটি ম্যাচে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে সে। তার স্বপ্ন ছিল একদিন দেশের বড় ক্লাবে খেলা, লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
এখনও হাসপাতালের বেডে শুয়েও জিমের চোখে সেই স্বপ্নের ঝিলিক। তিনি বিশ্বাস করেন, আবারও সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন। আবারও দর্শকদের করতালিতে মুখর হবে গ্যালারি। সতীর্থ, কোচ, বন্ধু ও জেলার ক্রীড়াপ্রেমীরাও সেই অপেক্ষায় রয়েছেন।
সবার প্রার্থনা—জিম খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক, আবারও পায়ে বল জড়িয়ে সবুজ মাঠ মাতাক, আর যশোরের ফুটবলকে নিয়ে যাক আরও উঁচুতে।