প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ এএম
সেন্ট মার্টিনের কাছে সমুদ্রে মালয়েশিাগামী একটি জলযান থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার ও ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি জলসীমায় নিয়মিত টহল চালানোর সময় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদ’ তাদের উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা সেন্ট মার্টিন বাতিঘর থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভেসে চলা একটি কাঠের নৌকা দেখতে পান। সহায়তার জন্য কাছে গিয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে নৌবাহিনীকে বিষয়টি জানান।
এই তথ্যের ভিত্তিতে, ওই এলাকায় টহলরত ‘বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদ’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেসে চলা নৌকাটিকে নিয়ন্ত্রণে নেয়। তখন নৌকাটিতে পানি ঢুকছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি সেচে ফেলেন এবং নৌকায় থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এরপর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাবার ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
নৌবাহিনী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টার সময় প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন; তাদের অধিকাংশই পাচারকারীদের দ্বারা অপহৃত হয়ে টেকনাফের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্দি ছিলেন এবং পরে তাদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
নৌবাহিনীর তথ্যমতে, সমুদ্রপথে অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনের কাজে নৌকাটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। আটককৃত ব্যক্তি ও জব্দ করা নৌকাটিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
নৌবাহিনী উল্লেখ করে যে, নৌকাটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি ঢুকতে থাকায় যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযানের ফলে ৭৬ জনের জীবনই রক্ষা পায় এবং একটি বড় ধরনের বিপর্যয় ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, মানবপাচার ও চোরাচালান রোধে এবং সমুদ্রে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে নৌবাহিনী তাদের নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
স্বত্ব © ২০২৬ ডিবিএন নিউজ