ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 22, 2026 ইং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ছবির ক্যাপশন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। দেশের এক ক্লান্তিকর ও অস্থির সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা এই প্রশাসক নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন—যা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারাবাহিক রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয় নানা অবকাঠামোগত সংকট, সেশনজট, আবাসন সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি ছিল। সে সময় তিনি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তার মেয়াদের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল প্রায় ৩৮০০ কোটি টাকার মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ। এই প্রকল্পের আওতায় নতুন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হলের সম্প্রসারণ, গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কাজ এগিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে এই প্রকল্প ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট লাঘব ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়নে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয় তার সময়ে।

তবে সমালোচনাও ছিল। কিছু শিক্ষার্থী সংগঠন ও শিক্ষক মহল বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবুও অস্বীকার করার উপায় নেই যে অস্থির সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় রাখাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, এবং সে ক্ষেত্রে তিনি একটি স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে প্রশাসনের দাবি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তন একটি পরিচিত চিত্র। নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নেতৃত্ব আসা—এটিকেই অনেকেই ‘রুটিন ট্রানজিশন’ হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে তার বিদায় একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা, একাডেমিক সংস্কার এবং ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা—এই তিনটি বিষয় এখন নতুন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের প্রতিটি পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং জাতীয় পরিসরেও তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : ডিবিএন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি