মণিরামপুরে ‘প্রকাশ্য’ নিলাম গোপনে! এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মণিরামপুরে ‘প্রকাশ্য’ নিলাম গোপনে! এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছবি: মনিরামপুর গরুহাটা
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
যশোরের মণিরামপুরে সরকারি গাছ ও জব্দকৃত সামগ্রী নিলাম নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে নিলামের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে এমন অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মণিরামপুর গরুহাটার দুটি রেইনট্রি গাছ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ হওয়া একটি স্কেভেটরের দুটি ব্যাটারি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রচারণা চালানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে ক্রেতা আহ্বান করার কথা থাকলেও, কেবল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেই নিলাম প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

শনিবার গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা এসিল্যান্ড মাহির দায়ান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল নিলাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় গরুহাটায় গাছ এবং সকাল ১০টায় থানা চত্বরে ব্যাটারির নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে নির্ধারিত স্থান ও সময়ে কোনো নিলাম হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গরুহাটার আশপাশের দোকানদাররা জানান, নিলামের দিন তারা কোনো কার্যক্রমই দেখেননি। পরে তারা জানতে পারেন, দুটি গাছ মাত্র ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অথচ স্থানীয়দের দাবি, জ্বালানি কাঠ হিসেবেই প্রতিটি গাছ ৮-১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব ছিল। একইভাবে নষ্ট হলেও ব্যাটারি দুটি অন্তত ১০ হাজার টাকা করে বিক্রি হতে পারত বলে তাদের ধারণা।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে পুরোনো চারটি রেইনট্রি গাছ রয়েছে যার মধ্যে দুটি মৃত এবং দুটি অর্ধমৃত। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত স্থানে নিলাম না করে এসিল্যান্ড নিজ দপ্তরে বসেই একটি পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নিলাম সম্পন্ন করেন। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আরও প্রশ্ন উঠেছে, নিলামের আবেদনকারী গরুহাটার ইজারাদার ফয়জুল ইসলাম নিজেই নিলাম জিতে নেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।

এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা বন দপ্তরের বন প্রহরী আবু তাহের বলেন, গাছ দুটো মৃত হওয়ায় আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

অন্যদিকে এসিল্যান্ড মাহির দায়ান আমিন বলেন, নির্ধারিত সময়ে নিলামস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে তার দপ্তরে এসে তিনজন অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফয়জুল ইসলাম নিলাম পান। তিনি আরও জানান, গাছ দুটি ৫ হাজার টাকায় এবং নষ্ট ব্যাটারি দুটি ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

প্রচারণা না চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ দ্রুত অপসারণ জরুরি ছিল। সময় স্বল্পতা ও কম মূল্যের কারণে মাইকিং করা হয়নি।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন প্রকাশ্যে নিলামের ঘোষণা দিয়ে গোপনে তা সম্পন্ন করা হলে স্বচ্ছতা কোথায়? বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে সর্বমহলে।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানে তেলের ডিপোসহ ৫ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা

ইরানে তেলের ডিপোসহ ৫ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা