আত্মহত্যার চেষ্টা ছাত্রনেতা মেঘমল্লার বসুর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন–এর সভাপতি মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টার খবর ক্যাম্পাস রাজনীতি ও বৃহত্তর সমাজে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সহযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও প্রতিকূল পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তিনি এই চরম পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনা শুধু একজন ছাত্রনেতার ব্যক্তিগত সংকট নয়; এটি আমাদের শিক্ষাঙ্গন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভেতরে জমে থাকা চাপ, প্রতিযোগিতা, অপপ্রচার ও অনিরাপত্তার এক করুণ প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি আদর্শ, বিতর্ক ও গণতান্ত্রিক চর্চার জায়গা হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলিং, সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব এবং ক্রমাগত পারফরম্যান্সের চাপ অনেক তরুণ নেতাকর্মীর মানসিক সুস্থতাকে নড়বড়ে করে দেয়।
আমরা প্রায়ই ছাত্রনেতাদের দৃঢ়, উচ্চকণ্ঠ ও অটল অবস্থানে দেখি। কিন্তু তাদেরও ব্যক্তিগত জীবন আছে, দুর্বলতা আছে, ক্লান্তি আছে। নেতৃত্বের বোঝা, সংগঠনের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব মিলিয়ে মানসিক চাপ কখনো কখনো অসহনীয় হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করলে চলবে না।
মেঘমল্লার বসুর ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকটি জরুরি প্রশ্ন সামনে আসে:
• আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কতটা সহজলভ্য ও কার্যকর?
• ছাত্ররাজনীতিতে পারস্পরিক সহনশীলতা ও মানবিকতার চর্চা কতটা রয়েছে?
• রাজনৈতিক মতপার্থক্য কি ব্যক্তিগত বিদ্বেষে রূপ নিচ্ছে?
কোনো ব্যক্তির সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো অনৈতিক। একইসাথে ঘটনাকে গুজব ও উত্তেজনা দিয়ে ঘোলাটে করাও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। বরং প্রয়োজন সহমর্মিতা, সংযম এবং গঠনমূলক আত্মসমালোচনা।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তিনি যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি, শিক্ষাঙ্গনে এমন পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার যেখানে মতবিরোধ থাকবে, কিন্তু তা মানবিকতার সীমা অতিক্রম করবে না; নেতৃত্ব থাকবে, কিন্তু তা মানসিক স্বাস্থ্যের বিনিময়ে নয়।
মানসিক চাপ নীরব ঘাতক। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাজনীতি হোক বা ব্যক্তিগত জীবন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ডিবিএন ডেস্ক